কলমে দেবযানী চক্রবর্ত্তী
অনেকদিন বাদে বাপেরবাড়ী এসেছে শ্রীতমা । স্বভাবতই সে ও বাড়ির লোকজন সকলেই খুব খুশি। সবাই আনন্দে আত্মহারা। ঘরে ঢুকতেই মা প্রায় জড়িয়ে ধরতে যায় আরকি! শ্রীতমা রাগী দিদিমনির মত বলে ওঠে “দূরে যাও দেখছ না বাইরে থেকে আসছি? আগে হাত পা ধুই , জামা কাপড় ছাড়ি ,জিনিসপত্র স্যানিটাইজ করি তারপর সব হবে।“ মা বলে ওঠেন “উফফ ,তুই মা না আমি সেটা বোঝা দায়।এত পিটপিটে কেন তুই?” শ্রীতমা এর প্রতিবাদে আরও কিছু বলতে বলতে জিনিষপত্র স্যনিটাইজ করল টেবিলে রাখা স্যানিটাইজার দিয়ে।
তারপর বাথরুমে ঢুকে হাত পা ধুল আর ড্রেস চেঞ্জ করে এল। ঘরে এসে সে নিজের ব্যাগ থেকে একটা টিফিন বাটি মাকে দিয়ে বলল “তোমার আর বাবার জন্য পায়েস এনেছি। কাল রাতে বানিয়েছিলাম।“ মা খুব খুশি হলেন আর সেই সাথে অবাকও। শ্রী এর শ্বশুরবাড়িতে অনেক লোকজন। সারাদিন সবার জন্য ফাইফরমাশ খাটতে খাটতে নিজের জন্য খুব একটা সময় হয় না শ্রীর। শ্রী একটু ঘরোয়া টাইপের মেয়ে। সংসারটা মনপ্রাণ দিয়েই করতে চায়। কিন্তু নিজের জন্য একটু সময়ও সে রাখতে চায়। একটু গল্পের বই পড়তে গান শুনতে তার ভাললাগে। মাঝে মাঝে মা বাবাকে দেখতে আসতে তার ইচ্ছা করে। কিন্তু সে সবের ফুরসত মেলে কদাচিৎ । যদিও বা মেলে স্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যরা তাকে ব্যঙ্গ করে। এত ঝক্কি পেরিয়ে সেই শ্রী আবার পায়েস নিয়ে এসেছে ? মা এসবই ভাবছিল। ভাবনায় ছেদ পরে শ্রী এর ডাকে। “ওমা মা তুমি কোথায় হারিয়ে গেছিলে? কখন থেকে ডাকছি?” শ্রী কপট রাগ দেখায়। “শোন মা আরেকটা কথা আছে আমি কিন্তু ঘণ্টা তিনেক পরেই ফিরব। ও বাড়িতে বলে এসেছি পূজা দিতে যাচ্ছি । তুমি শুনে হয়ত রেগে যাচ্ছ মিথ্যে বলেছি বলে। কিন্তু কি করব? উপায় ছিল না এছাড়া। তোমাদের দেখতে যে বডড ইচ্ছা করছিল। ভালো কাজের জন্য একটু না হয় মিথ্যাবাদী হলাম মা। আর সন্তানের কাছে তো মা বাবাই তার জীবন্ত দেবতা তাই না?“ শ্রীতমার মায়ের চোখে তখন আনন্দাশ্রু । কোনও কথা না বলে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি।
মিথ্যেবাদী-mithyabadi
No comments:
Post a Comment
please leave your valuable remarks